🔥 TRENDING Record Prices for Premium Paddy as El ... Former Telecom Secretary JS Deepak Say... Senator Rubio labels Indian protests a... अलवर में पहले चरण में 5.57 लाख वोटर; 1... Opposition and Government at a Crossro... India's T20I squad battles jet‑lag ahe...
22 Oct 2026•
ગુજરાતી मराठी ਪੰਜਾਬੀ বাংলা

শ্রী মহাকালী মন্দির, চন্দ্রপুর – বিদর্ভের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ

✍️ Reporter: DR:PINTU PAUL 🗓 22 Oct 2026, 06:16 AM 👁 11
Share: 💬 WhatsApp 📘 Facebook 𝕏 Post

শ্রী মহাকালী মন্দির, চন্দ্রপুর – বিদর্ভের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ

শ্রী মহাকালী মন্দির, চন্দ্রপুর – বিদর্ভের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ

মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর শহরে অবস্থিত শ্রী মহাকালী মন্দির বিদর্ভ অঞ্চলের অন্যতম বিখ্যাত ও প্রাচীন ধর্মীয় স্থান। মা মহাকালীকে চন্দ্রপুর শহরের আরাধ্য দেবী হিসেবে মানা হয়। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকেও হাজার হাজার ভক্ত দেবীর দর্শন করতে এখানে আসেন। এই মন্দিরে ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে।

১. মন্দিরের ইতিহাস

মহাকালী মন্দিরের ইতিহাস গোঁড় রাজবংশের শাসনকালের সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, গোঁড় রাজাদের আমলে এই মন্দিরের বিকাশ ঘটে। রাজা খাণ্ডক্যা বল্লালশাহের সঙ্গে মন্দির প্রতিষ্ঠার একটি প্রাচীন কিংবদন্তি জড়িয়ে রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে মন্দিরটির সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয় বলে জানা যায়। তাই এই মন্দির চন্দ্রপুরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২. মা মহাকালীকে ঘিরে প্রচলিত কিংবদন্তি

স্থানীয় লোককথা অনুসারে, গোঁড় রাজা খাণ্ডক্যা বল্লালশাহ একসময় গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। একদিন শিকারে যাওয়ার সময় তিনি ঝরপট নদীর কাছে জল পান করেন। কথিত আছে, সেই জল পান করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।

এরপর ওই এলাকার একটি পবিত্র স্থানের সঙ্গে মা মহাকালীর সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং সেখানে দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় লোকপরম্পরায় প্রচলিত রয়েছে।

এই কাহিনি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩. মন্দিরে দেবীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

মহাকালী মন্দিরে দেবীর দুটি প্রধান মূর্তি দর্শন করা যায়।

প্রধান মূর্তি: মন্দিরের প্রধান গর্ভগৃহে মা মহাকালীর একটি দাঁড়ানো মূর্তি রয়েছে। দেবীকে রঙিন পোশাকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়।

ভূগর্ভস্থ মূর্তি: মন্দিরের নিচের অংশে দেবীর আরেকটি মূর্তি রয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর জন্য একটি সরু, সুড়ঙ্গের মতো পথ দিয়ে যেতে হয়।

এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে মহাকালী মন্দির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।

৪. চৈত্রযাত্রা ও মঙ্গলবারের বিশেষ গুরুত্ব

মহাকালী মন্দিরে প্রতিদিন বহু ভক্ত দেবীর দর্শন করতে আসেন। তবে বিশেষ করে মঙ্গলবার মন্দিরে ভক্তদের ভিড় অনেক বেড়ে যায়।

চৈত্র মাসে এখানে একটি বিশাল ধর্মীয় যাত্রা বা মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই উপলক্ষে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে অসংখ্য ভক্ত চন্দ্রপুরে আসেন।

দেবীর দর্শন, মানত পূরণ, পূজা-অর্চনা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মন্দির চত্বর ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।

৫. কীভাবে মহাকালী মন্দিরে পৌঁছাবেন?

ঠিকানা: চন্দ্রপুর শহর, জেলা চন্দ্রপুর, মহারাষ্ট্র।

- রেলপথে: চন্দ্রপুর রেলস্টেশনে নেমে স্থানীয় যানবাহনের মাধ্যমে মন্দিরে পৌঁছানো যায়।
- সড়কপথে: মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন নিগমের বাসে চন্দ্রপুর শহরে পৌঁছানো যায়। শহরে পৌঁছে স্থানীয় যানবাহনে মন্দিরে যাওয়া সম্ভব।
- দর্শনের সময়: সাধারণত মন্দির দর্শনের জন্য ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় রাখা যেতে পারে। তবে চৈত্রযাত্রা বা বিশেষ উৎসবের সময় ভিড়ের কারণে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

৬. মহাকালী মন্দিরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

মহাকালী মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি চন্দ্রপুরের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অসংখ্য পরিবারের কাছে মা মহাকালী অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রতীক। ভক্তরা তাঁদের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য, শান্তি এবং মনস্কামনা পূরণের আশায় দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

এই মন্দির বহু মানুষের বিশ্বাস, আশা ও আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্রস্থল।

মা মহাকালী শক্তি, সাহস, ভক্তি ও অটুট বিশ্বাসের প্রতীক।

🙏 জয় মা মহাকালী! জয় চন্দ্রপুর!
📲Get App