পুঞ্চার মা চরণ পাহাড়ী কালী মন্দিরের পুজো; জানুন মাহাত্ম্য
তখন ১৩৫৭ বঙ্গাব্দ, সেই সময় পুরুলিয়া জেলার পুঞ্চা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার জিটি লতিফ। পুঞ্চা থানা থেকে অল্প দূরত্বে ছিল একটি নির্জন টিলা। সেই টিলায় নির্জনে গিয়ে বসতেন ওসি লতিফ। কেউ কেউ বলেন ওই ডুংরি ছিল পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার।এক রাতের স্বপ্নে সেই মুসলিম সম্প্রদায়ের ওসি দর্শন পেয়েছিলেন মা কালী। স্বপ্নে ওসি জানতে পারেন ওই টিলার উপরে কালো পাথরে মায়ের চরণ খোদাই করা আছে।পরে লতিফ সাহেব পাহাড়ে এসে পাথরের ওপরে দেবীর খোদাই করা চরণ দেখতে পান।দেবী নাকি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেবীকে পুজো করানোর।স্বপ্নে যা দেখেছেন বাস্তবে হুবুহু দেখে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন ওসি।স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে আলোচনা করে ওই ডুংরির উপর মন্দির নির্মাণ করান তিনি।আর তখন থেকেই পুজিত হয়ে আসছেন মা কালী।স্বপ্না দেশ থেকে পাওয়া দেবীর সেই চরণ এখনো মা কালীর মূর্তির পাশেই রাখা হয়।প্রতিদিন পূজোপাঠ হয়, সন্ধ্যায় হয় আরতি। সেদিনের সেই ছোট্ট মন্দির ১৪০৩ বঙ্গাব্দে বেড়ে ওঠে।সৌজন্যে পুঞ্চা থানার তৎকালীন ওসি সমর কুমার বন্দোপাধ্যায়। টিলার উপরে ওঠার সিঁড়িও তৈরি হয়েছে পরবর্তী সময়ে।প্রত্যেক বছর কালীপুজোয় নতুন রূপে সেজে ওঠে চরণ পাহাড়ী কালী মন্দির। শুধু এলাকার মানুষজন নয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন পুজো দিতে।শুধু পুজোর দিন নয় সারা বছর ভক্তদের সমাগম লেগে থাকে। লোকবিশ্বাস অনেকের মানত পূরণ করেছেন এই দেবী।মন্দিরের নিয়ম মেনে সেই প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এখনো হয় ছাগ বলি।কালী পূজার পরের দিন হয় নরনারায়ন সেবা। স্বপ্নে দেখা মা কালীর চরণ থেকে টিলার উপরে তৈরি হয়েছিল মন্দির।সেই থেকেই মন্দিরের নামকরণ হয়েছে চরণ পাহাড়ী।মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস এক করে দেয় সমস্ত জাতিকে।মুসলিম সম্প্রদায়ের অফিসারের হাতে প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দিরে আজও জাঁকজমক ভাবে পুজিত হন মা কালী।এই মন্দির এখন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাস্তবিক সম্প্রীতির প্রতীক।